সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন
August 7, 2017
Workshop for Journalists: Cyber Crime Awareness & Investigation
August 7, 2017

প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে টর ব্রাউজার বা ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে প্রতি মাসে ফেসবুক ব্যবহার করছে ১০ লাখের বেশি মানুষ। টর ব্রাউজার ব্যবহার করলে প্রাইভেসি বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায় এবং ডিজিটাল কোনো ছাপ থাকে না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বরাতে আইএএনএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টর ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে ছিল খুব কম। ২০১৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত টর ব্যবহার করে প্রতি মাসে মাত্র ৫ লাখ ২৫ হাজার ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করতেন। কিন্তু এ বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে টর ব্যবহারকারী বেড়ে ১০ লাখের বেশি হয়ে গেছে।

ফেসবুকের বরাতে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, টর ব্যবহার করে ফেসবুক ব্যবহারকারীর হার বাড়ার বিষয়টি মানুষের পছন্দের প্রতিফলন। ফেসবুক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার যে সুবিধা দেয় তার মূল্যায়ন। ফেসবুকের এই সুবিধা নিয়ে তাঁরা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেসবুককে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।

টর ব্যবহার করে নাম-পরিচয় গোপন করে ওয়েব ব্রাউজিং করা যায়। এ পদ্ধতিতে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে একাধিক এনক্রিপশন–ভিত্তিক ধাপ পেরিয়ে যোগাযোগ করা হয় বলে ব্যবহারকারীর সত্যিকার পরিচয় গোপন থাকে। ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে টর ব্যবহার করে ফেসবুক চালানোর সুবিধা দিতে বিশেষ ঠিকানা চালু করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এ বছরের শুরু থেকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য টর ব্যবহারের সুযোগ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য এখনো আইওএস প্ল্যাটফর্মে টর ব্যবহার করে ফেসবুক ব্যবহারের সুবিধা আসেনি।

ফেসবুকের দাবির বিষয়টি স্বীকার করে টরের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, টর ব্যবহার করে যখন ফেসবুক সাইটে যাওয়া হয়, তখন টর ব্রাউজার ফেসবুক ডেটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। তাই ব্যবহারকারীর ডিজিটাল তথ্য গোপন থাকে। অবশ্য কেউ যদি তার নিজের অবস্থান কোনো ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়, তবে তার পরিচয় বা অবস্থান আর গোপন থাকে না।

যেসব দেশে ইন্টারনেট সেন্সর করা হয়, সেখানে মানুষ টর ব্যবহার করে। টর ব্যবহার করে সেন্সরবিহীন ইন্টারনেট ব্যবহার ও ফেসবুক ব্যবহার করতে পারে তারা। যেমন ইরানে ফেসবুক বন্ধ। সেখান থেকে অনেকেই টর ব্যবহার করে ইন্টারনেট ও ফেসবুকে ঢুকতে পারেন।

প্রাইভেসি–বিষয়ক কর্মী, হ্যাকার, আন্দোলনকারী, সাংবাদিকেরা নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ‘ডার্ক ওয়েব’ ব্যবহার করেন। তথ্যসূত্র : আইএএনএস।