৫২ শতাংশের বেশি তরুণের অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড!

আরিফুর রহমান:  ৫২ শতাংশেরও বেশি বৃটেন তরুণরা (১৮-২৫ বছর বয়সী) বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সার্ভিসে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। অার এরই দরুন হ্যাকারদের পক্ষে এ্যাকাউন্ট হ্যাক করা সহজ হয় বলে যুক্তরাজ্যের সাইবার সচেতনতা বিষয়ক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ক্যাম্পেইনের তথ্য মতে এই সমস্যা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। কারণ প্রায়শই লোকজন ই-মেইল বা অন্য মাধ্যমে সংবেদনশীল বার্তা পাঠায়।

দুই হাজার ২৬১ জনের মধ্যে করা এই জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৭৯% সব বয়সের লোকজন দাবি করেছে তারা মেসেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের ব্যাংকের কাগজপত্র, পাসপোর্টের তথ্য, ড্রাইভিং লাইসেন্স অাদান-প্রদান করে।

এক বিবৃতিতে লন্ডনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের কো- অর্ডিনেটর মাইক ডজ বলেন, “তথ্যের মূল্যবান রত্নভান্ডার হলো অাপনার ই-মেইল, যেটা হ্যাকাররা লুট করতে দ্বিধাবোধ করেনা”।

তিনি অারো বলেন, “ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হবার প্রবণতা খুবই বেশি। কারণ মানুষ যখন কোনো বার্তা পাঠায় খুব কম সময়ই সেটা তারা মুছে ফেলে। ব্যাংকের তথ্য, ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এসব পাঠানো ম্যাসেজ লিস্টে থাকতে পারে বলে মাইক ডজ দাবি করেন।

তিনি বলেন, “অাপনি তো ঘরের দরজা কখনোই চুরির জন্য উন্মুক্ত করে রাখবেন না- তাহলে সাইবার অপরাধীকে তথ্য চুরির জন্য অামন্ত্রণ জানাবেন কেন?”

হ্যাকাররা একই ধরনের নাম ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে চায়। এক্ষেত্রে একটা পাসওয়ার্ডের পুনঃব্যবহার সাইবার দুর্বৃত্তদের কাজে সাহায্য করে।

বড় ধরনের ইমেইল অপারেটররা খুবই চেষ্টা করে যাচ্ছে যাতে লগ ইন সম্পর্কিত তথ্য সুরক্ষিত থাকে। সমস্যা হলো ছোট অপারেটর ও ফার্মদের অকার্যকারিতার দরুন পাসওয়ার্ড পুনঃব্যবহার মানেই – শেষ।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ব্যবহারকারীরা গড়ে ৬টা অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিয়মিত। যার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন কেনাকাটাও অন্তর্ভুক্ত। অন্য এক তথ্য মতে ব্যবহারকারীরা প্রায় ২১ ধরনের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, যেখানে তারা বার বার প্রবেশ করে।

জরিপে অারো পাওয়া গেছে, তরুণদের মধ্যে ইমেইলের পাসওয়ার্ড অন্য অনলাইন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করার প্রবণতা বেশি। ২৭% মানুষ তাদের ইমেইলে লগইনের ক্ষেত্রে “কী- অাইডেন্টিফায়ার” (মূল সনাক্তকরণ ব্যবস্থা) পুনঃব্যবহার করে।

এই জরিপের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের সাইবার সচেতনতা বিষয়ক সরকারি ক্যাম্পেইন থেকে কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সবাইকে পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্টে অালাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতেও বলা হয়েছে। তারা জানান, শিশুদের নাম, পোষাপ্রাণী বা প্রিয় দলের নাম- এ ধরনের তথ্য যাতে পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। কারণ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব তথ্য খুব সহজেই পাওয়া যায়। সম্ভব হলে দুই স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা (টু স্টেপ ভেরিফিকেশন/অথেনটিকেশন) ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ক্যাম্পেইন পরিচালাকারীদের একজন দায়িত্বশীল ড. হ্যাজেল ওয়ালেস। তিনি জানান, “মানুষ বছরের শুরুতে নিজেকে পুনরায় সাজাতে চায়, ডায়েট বা ফিটনেসের মাধ্যমে। যখন অাপনি জীবনকে ফিরে পেতে, সুরক্ষিত রাখতে যেমন চান, তেমনিভাবে অনলাইনের সুরক্ষাও জরুরি। হ্যাকাররা অাপনার ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার পেতে ইমেইল ব্যবহার করে বারবার অন্য অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে বলবে, যেটার সুরক্ষা অতি জরুরি।” – সূত্র: বিবিসি।