সোস্যাল মিডিয়ায় নিরাপদ থাকার ৫ টিপস

মমিনুল ইসলাম: সোস্যাল মিডিয়া বর্তমানে আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর রয়েছে শত কোটি ব্যবহারকারী। যাদের অনেকেই এই প্লাটফর্মে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হরহামেশাই শেয়ার করে থাকেন, যা ক্ষতি করার জন্য হ্যাকার, জালিয়াত চক্র ও তথ্যচোরদের করে দেয় সীমাহীন সুযোগ।

গৃষ্মকালে বহু মানুষ অবসর সময় পার করেন। দূরে কোথাও ভ্রমণ করেন। স্বাভাবিকতার চেয়ে একটু বেশিই তারা এসব ঘটনার ডিজিটাল আপডেট পোস্ট করছেন। ফলে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনলাইন নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির প্রতি মনোযোগ দেওয়া এখন অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখানে সোস্যাল মিডিয়ায় কিভাবে নিরাপদ ও অধিক সুরক্ষিত থাকা যায় সে সম্পর্কে কিছু বাস্তবিক টিপস দেওয়া হলো-

১। প্রাইভেসি সেটিংসের প্রতি মনোযোগ দিন

প্রতিটি সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মেরই প্রাইভেসি সেটিংস রয়েছে। যা আপনি আপনার স্বাচ্ছন্দ অনুযায়ী সেট করতে পারেন। অধিকাংশ প্লাটফর্মেই কারা আপনার পোস্ট, বন্ধুতালিকা ও আপনি যেসব পেজ অনুসরণ করেন বা লাইক করেন তা দেখতে পারবে সে বিষয়টি নির্ধারণ করার সুযোগ রয়েছে। আপনি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানোর সংখ্যা সীমিত করতে পারেন এবং অন্য কেউ যেন আপনার ইমেইল নাম্বার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য দেখতে না পায় তার ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমাদের পরামর্শ এসব প্রাইভেসি ফিচার আপডেট রাখতে নিয়মিত আপনি আপনার সেটিংস পর্যালোনা করুন।

২। সবকিছুই প্রকাশ করবেন না

আপনি কখনও সোস্যাল মিডিয়ায় আপনার বাসার ছবি পোস্ট বা আপনার ঠিকানা প্রকাশ করেছেন? কতবার আপনি ইন্টারনেটে বলেছেন যে, আপনি বাসার বাইরে বা বিদেশে আছেন? কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই ধরনের অভ্যাস আপনার জন্য কতটা ক্ষতির পথ খুলে দিতে পারে।

প্রচুর সংখ্যক জালিয়াত রয়েছে যারা সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ঘাটাঘাটি করেন। যাতে করে তারা তাদের বাসার ঠিকানা খুঁজে পায়। যদি চোরেরা কোনোভাবে জানতে পারে যে, আপনি বাসার বাইরে অবস্থান করছেন তাহলে তারা সহসাই আপনার বাসাতে প্রবেশ করার সুযোগ পাবে এবং চুরি করতে পারবে। তাই আপনি যখন বাসার বাইরে অবসর যাপন করছেন তখনকার ছবি ও আপডেটগুলো সরাসরি প্রকাশ না করে তা সেভ করে রাখনু। প্রয়োজনে বাসায় ফেরার পরে তা প্রকাশ করুন।

৩। সতর্কতার সঙ্গে বন্ধু বাছাই করুন

গড়ে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা নতুন ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দেখে আনন্দিত হয়ে থাকেন। সর্বপোরি আপনি হয়তো চান আপনার সমকক্ষ ব্যক্তিরা আপনার কর্মের স্বীকৃতি দেক ও আপনার প্রশংসা করুক। কিন্তু মনে রাখতে হবে সবকিছুই কিন্তু জনপ্রিয়তা নয়। তাই সর্বোত্তম অনুশীলন হলো- যাদের আপনি চেনেন অথবা বাস্তব জীবনে স্বাক্ষাৎ করেছেন কেবল তাদের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণ করুন।

অপরাধীরা ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি ও হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে বন্ধু বানাতে উস্তাদ। তাদের উদ্দেশ্য উদ্দিষ্টদের ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ করা ও তা হাতিয়ে নেওয়া। যদি কোনো ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে আপনার সন্দেহ থাকে তাহলে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তার প্রোফাইল ঘেটে দেখুন। যদি তাকে অপরিচিত মনে হয় অথবা আপনি তাকে না চেনেন তাহলে আমরা আপনাকে দৃড়তার সাথে পরামর্শ দিচ্ছি- তাদের বন্ধু হওয়ার রিকুয়েস্ট প্রত্যাখ্যান করুন।

৪। অপরিচিত লিংকে ম্যালওয়ার আশঙ্কা

সোস্যাল মিডিয়ায় আপনাকে কোনো অপরিচিত লিংক পাঠানো হলো। আর লিংকটি নিয়ে যদি আপনার কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে তাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা প্রায়ই সাইবার অপরাধীরা ইমেইলে লিংক প্রেরণ, সোস্যাল মিডিয়া পোস্ট ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এমনকি যদি আপনি পাঠানো লিংকটির সূত্র সম্পর্কে জানেন তবুও কোনো কিছু সন্দেহজনক দেখালে তা মুছে ফেলুন বা এড়িয়ে চলুন।

৫। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড

অধিকাংশ হ্যাকার পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিতে বিশাল ডাটাবেজ ব্যবহার করে থাকে। দুর্বল পাসওয়ার্ড আপনার অ্যাকাউন্টে অন্যের প্রবেশের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেবে। তাই অন্তত ১২টি ছোটবড় অক্ষর/সংখ্যা/প্রতীকের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। এক্ষেত্রে এমন ইতিবাচক বাক্য অথবা শব্দগুচ্ছ দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করুন যা নিয়ে আপনি ভাবতে পছন্দ করেন এবং যা আপনার মনে রাখতে সুবিধা হবে। যেমন “I love country music.”। অনেক সাইটে আপনি স্পেসও ব্যবহার করতে পারবেন।

লাখ লাখ মানুষ কোনো বাছবিচার বা ভালো মন্দ না ভেবেই অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেন। যা জালিয়াতদের সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়। জিডিটাল চোরেরা সহজেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। আপনি যদি এই সমস্যা এড়িয়ে চলতে চান এবং সোস্যাল মিডিয়া নিরাপদভাবে ব্যবহার করতে চান তাহলে উল্লিখিত পাঁচটি টিপস মনে রাখুন।