প্রাইভেসি (ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা) টিপস

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অবিরাম তথ্য প্রবাহ তৈরি করছি। সরকারি হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭ (সাত) কোটির বেশি। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৫ (পাঁচ) কোটিতে দাঁড়াবে।  আজকে আমরা আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেট ও আমাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ডিভাইসগুলোতে ব্যয় করছি। এখনও খুব কম মানুষই জানে যে, আমাদের ব্যবহৃত ডিভাইস ও অনলাইন সেবা থেকে অসংখ্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তা শেয়ার করা হচ্ছে। এসব তথ্য অনির্দিষ্টভাবে গচ্ছিত করা হতে পারে এবং আমাদের ব্যক্তিগত এসব তথ্য উপকারে ব্যবহার করা হতে পারে আবার অবাঞ্চিতভাবেও ব্যবহার করা হতে পারে। এমনকি দেখা গেছে, অনলাইনে অনুপকারী তথ্য শেয়ার করার ফলেও তা আপনার আর্থসামাজিক অবস্থান সম্পর্কে হস্তক্ষেপ করতে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন আপনার প্রিয় রেস্টুরেন্ট অথবা অনলাইনে যেসব আইটেম আপনি ক্রয় করেছেন তা শেয়ার করা।

প্রাইভেসি বা তথ্য সুরক্ষার কিছু টিপস নিচে উল্লেখ করা হলো-

 

আপনার অনলাইন উপস্থিতি

১। ব্যক্তিগত তথ্য টাকার মতো, এটিকে গুরুত্ব দিন, সুরক্ষিত করুন: আপনার সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, যেমন: আপনার কেনাকাটার বৃত্তান্ত, অবস্থান এসব তথ্য টাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ। কে কিভাবে এসব তথ্য বিভিন্ন অ্যাপস ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে সে বিষয়ে সতর্ক হোন। অব্যবহৃত অ্যাপসগুলো অবশ্যই আপনার মুছে ফেলা উচিত।  প্রয়োজনীয় অন্যান্য অ্যাপস রাখতে চাইলে সেগুলো ইনস্টলের সময় আপনার ডিভাইস থেকে কী কী তথ্য নেয়ার অনুমতি চেয়ে নিচ্ছে সেগুলো ভালভাবে দেখুন।

 

২। তথ্য শেয়ারে সতর্ক হোন: নিজের বা অন্যের সম্পর্কে অনলাইনে কিছু পোস্ট করার আগে ভাবুন, তথ্যটি প্রকাশ হলে কেমন দেখাবে, কারা দেখবে এবং বর্তমানে ও ভবিষ্যতে এ সম্পর্কে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে। যাদের সঙ্গে তথ্যটি শেয়ার করছেন তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে নিশ্চিত হোন যে, তারা এই তথ্যটি জানার জন্য সঠিক ব্যক্তি কি না।  এজন্য পোস্ট দেওয়ার আগে আপনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বন্ধু তালিকা ও নিজের মূল কন্টাক্ট লিস্ট ভালোভাবে পর্যালোচনা করুন।

 

৩। অনলাইনে আপনার স্বকীয়তা: ওয়েবসাইট ও অ্যাপসে তথ্য শেয়ারের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দ অনুযায়ী প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি সেটিং করুন। কোন তথ্য কার সঙ্গে কিভাবে শেয়ার করবেন সেটি নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার ব্যবহৃত প্রত্যেকটি ডিভাইস, অ্যাপ্লিকেশন অথবা ব্রাউজারে ভিন্ন ফিচার সেট করুন। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য অভিজ্ঞ কাউকে জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন।

 

৪। অ্যাকাউন্ট লগ আউট: ইমেইল, অনলাইন ব্যাংকিং ও সামাজিক মাধ্যমের মতো অ্যাকাউন্টগুলো সুরক্ষার জন্য শুধু ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ডই যথেষ্ট নয়। এজন্য বায়েমেট্রিক, সিকিউরিটি কোড, মোবাইলে ওয়ানটাইম কোড ইত্যাদির মতো কঠিন ব্যবস্থা চালু রাখুন।

 

৫। কম্পিউটার পরিচ্ছন্ন রাখুন: ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে কম্পিউটার ও মোবাইলে সব সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপস নিয়মিত আপডেট রাখুন।

 

৬। গোল্ডেন রুল অনলাইন:  আপনার সম্পর্কে অন্যরা যেমন তথ্য শেয়ার করা আপনার পছন্দ, আপনিও তাদের সম্পর্কে সেরকম পোস্ট করুন।

 

৭। ডিভাইসের নিরাপত্তা: পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গার সুইপ, চেহারার ছাপ  (ফেসিয়াল রিকগনিশন), ইত্যাদির মতো কঠিন অনুমোদন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রত্যেকটি ডিভাইসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা ডিভাইসে অনুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ডিভাইস হারানো বা চুরি হয়ে গেলে আপনার তথ্য সুরক্ষিত রাখবে।

 

৮। অ্যাপস ব্যবহারের আগে ভাবুন: আপনার সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য, যেমন: আপনার পছন্দের গেমস, কন্টাক্ট লিস্ট, কোথায় কেনাকাটা করেন এবং আপনার অবস্থান- এসব খুবই মূল্যবান। কে কিভাবে আপনার এসব তথ্য পাচ্ছে এবং বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে কিভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে সে বিষয়ে সচেতন হোন।