ডিজিটাল চিকিৎসাসেবা কেন সাইবার নিরাপত্তায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে?

Doctor With Medical Healthcare Icon Interface

:: মনির হোসেন ::
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নির্ভর স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে বেশি সাইবার আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু ২০১৮ সালেই বিশ্বের ৫৩টি দেশে ৫৩ হাজার মেডিকেলে IoT (ইন্টারনেট অব থিংস) সংযুক্ত ডিজিটাল সেবায় সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটে এবং দুই হাজারের বেশি বার তথ্য চুরির (Data Breach) রেকর্ড পাওয়া যায়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, স্বাস্থ্যসেবা ইন্ডাস্ট্রি দিনকে দিন অন্যান্য সব সেক্টর থেকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, হেলথকেয়ার সেক্টর কেন এতোটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে! কারণ মেডিকেল ডাটাবেইজে (তথ্যভান্ডার) হাজার হাজার রোগীর লাখ লাখ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য থাকে। সাইবার অপরাধীরা রোগীদের ইনসুরেন্সের তথ্য ও ফাইনান্সিয়েল ডাটা বেদখল (হ্যাক) করে প্রতারণা, চুরি অথবা কালো বাজারিদের (ব্লাক মার্কেট) হাতে বিক্রি করে দিতে পারে।

এছাড়াও রোগীর একান্ত ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যগুলো হাতিয়ে নিয়ে হ্যাকাররা রোগীদের ব্যক্তিগতভাবে ব্লাকমেইল অথবা রেনসমওয়্যার (একটি ভাইরাস) হামলা চালাতে পারে।

ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দল/নেতাকে কোনঠাসা বা অবদমিত করতে মেডিকেলের এই তথ্যগুলোকে অপব্যবহার করে থাকে। আর এক্ষেত্রে কোনো ব্যাক্তির মেডিকেল রেকর্ড হস্তগত করতে তারা তুলনামূলক সহজ মনে করে। আবার চরমপন্থী হ্যাকাররা সরাসরি কোনো রোগীকে এ্যটাক না করেও মেডিকেল সিস্টেমে ক্রাশ করে রোগ নির্ণয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ইন্টারনেট সংযোগ ও IoMT (Internet of Medical Things) প্রযুক্তি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য আনলেও এগুলোর অরক্ষিত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ত্রুটি মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিতে চরম বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। স্বাস্থ্য সেবায় আপনার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও নিরাপত্তা সচেতনতা (তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে) আপনাকে প্রায় ৫০ ভাগ নিরাপদ রাখতে পারে।

অনলাইনে আপনার মেডিকেল রেকর্ডগুলো নিরাপদ রাখতে ও টেলিমেডিসিন গ্রহণের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তার সাধারণ বিষয়গুলো জানুন এবং অন্যকে জানান। নিজে সুস্থ থাকুন, অন্যকে নিরাপদ রাখুন। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় আপনার করণীয় বিষয়ে সচেতন হোন। Do Your Part, #BeCyberSmart.

স্বাস্থ্যসেবায় প্রচলিত সব ডিজিটাল সেবায় নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলো সর্বদা বিবেচনায় রাখুন-
১। টেলি হেল্থ সেবা নেয়ার আগে আপনার ডিভাইস ও সফটওয়্যারকে আপডেট/আপগ্রেড করে নিন।
২। ওয়াইফাই সংযোগ সুরক্ষিত কিনা জেনে চিকিৎসকের সঙ্গে অনলাইন সেশনে যুক্ত হোন। (এক্ষেত্রে ডাক্তার ও রোগী উভয়কেই সচেতন হতে হবে)।
৩। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে যেকোনো ধরনের ডিভাইস/সফটওয়্যার কেনার আগে সেগুলোর রিভিউ দেখে নিন এবং নির্মাতাদের মার্কেট গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করুন।
৪। আপনার প্রদত্ত তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কোম্পানির কী ব্যবস্থা নেয়া আছে সেগুলো জেনে নিন।
৫। নির্ভরযোগ্য সোর্স হতে অ্যাপস/সফটওয়্যার ডাউনলোড করে তৎক্ষণাৎ নিজস্ব কনফিগারেশন (সিকিউরিটি/প্রাইভেসি) সেট করে নিন।
৬। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে ব্যবহৃত সব ডিজিটাল সেবায় ইউনিক Password/Passphrase ব্যবহার করুন। সুযোগ থাকলে Two Factor Authentication (দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা) ব্যবহার করুন।
৭। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের স্পর্শকাতর তথ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যেকোনো অনলাইন স্পেসে শেয়ার দেয়া থেকে বিরত থাকুন।

লেখক: মনির হোসেন, অ্যাম্বাসেডর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টার, সিসিএ ফাউন্ডেশন