যুক্তরাষ্ট্রের এনসিএসএএম চ্যাম্পিয়ন সিসিএ ফাউন্ডেশন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্সের (এনসিএসএ) ১৫তম সাইবার সচেতনতা মাসের ক্যাম্পেইনের (২০১৮)  অফিসিয়াল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস (সিসিএ) ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যসুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংগঠনটি কাজ করবে।

 

সারা বিশ্বে প্রতি অক্টোবরে মাসব্যাপী সাইবার সচেতনতা বিষয়ক নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়। বাংলাদেশে ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি শুরু করে সিসিএ ফাউন্ডেশন। এটি ডিজিটাল নাগরিকদের নিরাপদ থাকার এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ডিজিটাল নাগরিকদের কাছে সাইবার সুরক্ষার প্রয়োজনীয় বার্তাগুলো পৌঁছে দেয়া হয়।

 

অফিসিয়াল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে যুক্ত হয়ে অক্টোবর মাসব্যাপী সাইবার সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো সিসিএ ফাউন্ডেশন।

 

সিসিএ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ এ সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, “সাইবার সচেতনতা এখন আমাদের খাওয়া-দাওয়ার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয়।  সাইবার সুরক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আর সচেতনতা তৈরি করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই আমরা এ বছর সাইবার সচেতনতা মাসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছি, ‘সাইবার সুরক্ষিত দেশ গড়ার, সম্মিলিত দায়িত্ব সবার’, যা আন্তর্জাতিকভাবে ‘Securing the internet is our Shared Responsibility’ নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্স (এনসিএসএ) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-এর নেতৃত্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাসের কার্যক্রমের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোক্তাদের নিকট, যেমন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সামরিক বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তরুণদের কাছে পৌঁছেছে।

 

২০১৭ সালের অক্টোবর মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইনের কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো, প্রায় ৪,৩১৬টি নতুন সংবাদ তৈরি করা- যেটি কিনা আগের বছরের (২০১৬) মিডিয়া কভারেজের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। ১৫তম বছরে পা দিয়ে সাইবার সচেতনতা মাস-২০১৮, গত কয়েক বছরে মাসটির অবদান বৃদ্ধির একটি অসাধারণ সুযোগ তুলে ধরেছে এবং বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বিস্তৃত করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এনসিএসএ’র নির্বাহী পরিচালক রুস স্ক্র্যডার (Russ Schrader) বলেছেন, “চ্যাম্পিয়ন প্রোগ্রামটি সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাসের চলমান সাফল্যের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে। ২০১৫ সালে, ১০৫০ টি সংগঠন এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।” সাইবার সচেতনতা এবং তথ্য সুরক্ষায় যৌথ দায়িত্বের প্রতি সমর্থন এবং প্রতিশ্রুতির জন্য ২০১৮ চ্যাম্পিয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রুস স্ক্র্যডার।

 

অফিসিয়াল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অক্টোবর মাসব্যাপী কর্মসূচিতে সিসিএ ফাউন্ডেশন নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য শিগগির গণমাধ্যমে জানানো হবে।

 

সাইবার সচেতনতা মাস সম্পর্কে আরো জানতে এবং কর্মসূচিতে অংশ নিতে, ccabd.org/CyberAwareMonth দেখুন।

 

আপনি পুরো মাসব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়াতে সাইবার সচেতনতামূলক বিভিন্ন পোস্ট দেয়ার সময় দুটি হ্যাশট্যাগ #CyberAware#CyberAwareBD ব্যবহার করতে পারেন।

 

সাইবার সচেতনতা মাস সম্পর্কে:

সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ঘটনা ঘটলে কিংবা এই সম্পর্কিত দেশে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির জন্য জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাইবার সচেতনতা মাস পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়।  ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসে। এরপর তা কংগ্রেস, ফেডারেল, রাষ্ট্র ও স্থানীয় সরকার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হয়। এছাড়া ২০১১ থেকে নরওয়ে এবং ২০১২ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ সারা বিশ্বে অক্টোবরকে ‘সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করে আসছে। এই যৌথ প্রচেষ্টা সাইবারস্পেসকে নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

সিসিএ ফাউন্ডেশন সম্পর্কে:

অনলাইনে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ২০১৫ সালে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক উদ্যোগ সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। এর পর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের জন্য সাইবার অপরাধ সচেতনতা ও অনুসন্ধান বিষয়ক কর্মশালা, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার আয়োজন করে আসছে।বিভিন্ন অঞ্চল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাইবার সচেতনতায় তৈরি করা হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব। বর্তমানে চলছে সমসাময়িক সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী নিয়ে গবেষণাসহ নানা কার্যক্রম।

 

এনসিএসএ সম্পর্কে: 

ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি অ্যালায়েন্স (এনসিএসএ) হলো যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় একটি সংস্থা, যেটি সরকারি-বেসরকারি যৌথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্য সুরক্ষা বিষয়ক  সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে থাকে। এনসিএসএ সরকার, প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে। এনসিএসএ’র প্রধান অংশীজন হলো যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টামেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস-DHS) এবং এনসিএসএ (NCSA) এর বোর্ড অফ ডিরেক্টরস, যা এডিপি (ADP) থেকে প্রতিনিধিত্বের অন্তর্ভুক্ত; এটেনা (Aetna); এটিএন্ডটি পরিষেবা ইনকর্পোরেটেড; আমেরিকার ব্যাংক; সিডিকেগ্লোবাল, এলএলসি; সিসকো; কমকাস্ট কর্পোরেশন; ইএসইটি (ESET) উত্তর আমেরিকা; ফেসবুক; গুগল; ইন্টেল কর্পোরেশন; লজিক্যাল অপারেশন; মারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল; মাস্টারকার্ডের মাইক্রোসফট কর্পোরেশন; মাইমকাস্ট(Mimecast); এনএক্সপি (NXP)সেমিকন্ডাক্টর;  রেথন (Raytheon); আরএসএ (RSA); ইএমসি (EMC) নিরাপত্তা বিভাগ; সেলসফোরস; সিমন্টেক কর্পোরেশন; টেলিসাইন (TeleSign); ভিসা এবং ওয়েলস ফারগো।

 

এনসিএসএ (NCSA) এর উল্লেখযোগ্য ক্যাম্পেইনগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস (অক্টোবর); তথ্য সুরক্ষা দিবস (২৮ জানুয়ারি); ‘স্টপ, থিংক কানেক্ট’ এবং সাইবারসিকিউর মাই বিজনেস। এসব ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

 

আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ccabd.org/cyberAwareMonth

যোগাযোগ: aidcca@gmail.com

হটলাইন: 01957 61 62 63