সাইবার অপরাধের শিকার হলে কী করবেন

আইনে অপরাধের ধরণ ও অপরাধীর শাস্তির বিধানের কথা বলা আছে। কিন্তু প্রতিকার পেতে গেলে আপনাকে এ আইনটি ব্যবহার করতে হবে বা আইনের আশ্রয় নিতে হবে। চলুন তাহলে জেনে নেই প্রতিকার পেতে হলে কী করতে হবে। এমন ঘটনায় আইডি উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগিকে যা যা করতে হবে তা হলো-

ক. ঘটনার বিবরণ এবং বিকাশ বা রকেটের যে নাম্বার পাঠিয়ে টাকা দাবি করছে তা উল্লেখ করে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি শহরের প্রতিটি থানার একজন ইন্সপেক্টর এবং দুজন এসআইকে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিশেষ ট্রেনিং দিয়েছে। ফলে ফেসবুক আইডি হ্যাকের ঘটনায় থানায় গিয়ে প্রতিকার চাইতে গেলে আগের মতো বিব্রত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের শিকার হওয়ার সম্ভবনা এখন কম।)

খ. থানা পুলিশ যদি পূর্ণ সহযোগিতা না করে অথবা ব্যর্থ হয় তবে জিডির কপি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হেডকোয়ার্টারে অবস্থিত সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এছাড়াও দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপসের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করলে প্রতিকার মিলবে।

গ. অভিযোগ দাখিলের পর তাড়াহুড়ো না করে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে এবং নিয়মিত ফলোআপ করলে আপনি প্রতিকার পাবেন। কেননা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এবং আন্তরিক বহু কর্মকর্তা।

অনলাইনে সতর্ক থাকুন: বিপদে পড়ে সাহায্য প্রার্থণার চেয়ে আগাম সতর্কতা সাইবার অপরাধের শিকার হবার ঝুঁকি কমায়। যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখলে বা পদক্ষেপ নিলে এমন বিপদ থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে তার কয়েকটি পাঠকের জন্য তুলে ধরছি।

ক. ই-মেইল ও ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ভিন্ন রাখুন। হ্যাকাররা ফেসবুক হ্যাক করার পর মেইল এড্রেসও বদলে ফেলে। আর মেইল বদলে ফেলতে পারলে হ্যাকড হওয়া অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া কঠিন।

খ. কোথাও পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হলে লক্ষ্য রাখুন এটি আসলেই মূল ঠিকানার এড্রেস কি না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভুয়া সাইটগুলোতে পাসওয়ার্ড দিয়েই বিপদে পড়ে মানুষ। যেমন ধরুন- facebook.com এর পরিবর্তে যদি facebookie.comfacabook.com ইত্যাদি দেখায় তবে পুনরায় পাসওয়ার্ড টাইপ করা থেকে বিরত থাকুন।

গ. কাজ শেষে অবশ্যই লগ আউট করতে হবে। এক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড রিমেম্বাার দেওয়া যাবে না। পাবলিক কম্পিউটারে বসলে কাজ শেষে অবশ্যই cache এবং cookies ডিলেট করতে হবে।

ঘ. Facebook Password Reset Confirmation এ রকম ই-মেইলে ঢুকে পাসওয়ার্ড রিসেট ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

ঙ. ফিশিং বা অন্য কোনো উপায়ে পাসওয়ার্ড চুরির ক্ষেত্রে আইডির ক্ষতি ঠেকাতে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে রাখুন। এরপর account settings এর Security অপশনে গিয়ে change অপশনে ক্লিক করুন। Login Notifications এর নিচে লেখা Send me a text message সিলেক্ট করুন। এতে আপনার ব্যবহৃত ডিভাইস ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস থেকে লগ ইন করা হলে আপনার মোবাইলে বার্তা যাবে। এরপর Require me to enter a security code sent to my phone সিলেক্ট করুন। এতে কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার চেষ্টা করলে মোবাইলে কোড পাঠাবে ফেসবুক। কোড ছাড়া কোনভাবেই লগইন করা সম্ভব হবে না।

সবার ইন্টারনেট ব্যবহার নিরাপদ হোক। মনে রাখা জরুরি, অনলাইন জগতে এক মুহূর্তের অসতর্কতা ভয়ানক সব বিপদ ডেকে আনতে পারে। ফলে, অনলাইন জগতে সতর্ক থাকুন, যৌক্তিক আচরণ করুন এবং অপরাধের শিকার হলে নীরবে সহ্য না করে অবশ্যই প্রতিবাদ করুন।